অন্যায় চুদাচুদি?

দাঁড়া। অ্যাঁ কি বললি। …..এখনো আছে। …..বেরোয় নি। ……ঠিক আছে। হ্যালো। বল। অনিমেষদারা এখনো অনির বাড়িতে আছে। গলায় উৎকন্ঠা। তুইকি গাঁজা খেয়েছিস। আমার সঙ্গে একসঙ্গে বেরোলো। আমার লোক বললো। অনিমেষদার গাড়ি দাঁড়িয়ে আছে। দেখলাম ইসলামভাই চিকনা ঘরের দরজার সামনে থেকে অদৃশ্য হয়ে গেলো। রাখ ভালো লাগছে না। কাল পার্টি অফিসে আয় দেখছি। তাহলে কাল সকালে টাকাটা পাঠিয়ে দিই। কেনো বলবি তো। যদি ঝেড়ে দেয়। কি করে বুঝলি ঝেড়ে দেবে। ওর গলা শুনে মনে হচ্ছে। তারওপর ওর সেই মুখার্জীর লোক আমার বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে আছে। কি করতে। মনে হয় রেট করবে। কেনো। আবার কি গন্ডগোল করলি। অনুপ তুই আমাকে অনির হাত থেকে বাঁচা। তখন থেকে কি ভেজর ভেজর করছিস বলতো। তোরা কিছু না করলে অনিকে কাল আমি ঝেড়ে

দেবো। তারপর সামলাতে পারবি। নিজেতো মরেই গেছি। একটাকে নিয়ে মরি অন্ততঃ। ওখানে ইসলাম আছে। কিছু চিন্তা করতে ভালো লাগছে না। আমি কি কোরবো। তোর জন্য আমি কি পার্টি থেকে এক্সপেল হবো নাকি। অনুপদা রেগে গেলো। ঠিক আছে, আমি আমার মতো করে কাজ শুরু করছি। আগু পিছু ভেবে করিস। ভাবতে গেলে শেষ হয়ে যাবো। যা পারিস কর। আমি এখন রাখছি। অনুপদা ফোনটা কেটে দিলো। আমি ছোঁ মেরে অনুপদার হাত থেকে ফোনটা নিয়ে রেকর্ডিংটা সেভ করলাম। ফোনটা স্যুইচ অফ করে দৌড়ে ঘর থেকে বেরিয়ে এলাম। খালি অনিমেষদার ক্ষীণ কন্ঠ কানে ভেসে এলো। সুতপা ওকে আটকাও। একটা হৈ হৈ পরে গেলো। ছুটে নীচে চলে এলাম। বাগানে এসে দাঁড়ালাম। নেপলা চিকনা সঞ্জু বেধড়ক মারছে একটা ছেলেকে। আর একটাকে টেনে হিঁচড়ে আবিদ নিয়ে আসছে। পেছনে রতন। ইসলামভাই আমাকে দেখে বললো। তুই ওপরে যা। চারিদিক আধো অন্ধকার। লাইট সব নিবিয়ে দিয়েছে ইসলামভাই। ছেলেগুলোর মুখ ঠিকমতো দেখতে পাচ্ছি না। ফিরে আসছিলাম। অনিদা বাঁচাও। আমি কিছু করিনি। ঘুরে দাঁড়ালাম। নেপলা আমার নাম শুনে ছেলেটাকে ছেড়ে দিয়েছে। ছেলেটা ঘসরাতে ঘসরাতে আমার কাছে এসে পা জড়িয়ে ধরলো। অনিদা তুমি বিশ্বাস করো। দেখলাম কনিষ্ক পাশে এসে দাঁড়িয়েছে। কেরে টনা। কনিষ্কদা তুমি! এরা আমাকে মেরে ফেললো। আমি স্থানুর মতো দাঁড়িয়ে। তুই এখানে, এতো রাতে। কনিষ্কর গলাটা এই নিশুত রাতে গম গম করে উঠলো। ওপরের দিকে তাকিয়ে দেখলাম বারান্দায় মেয়েরা দাঁড়িয়ে। কিছু নেমে এসেছে মিত্রা ইশি পাশে এসে দাঁড়ালো। আমার দুহাত দুজনে শক্ত করে ধরেছে। কনিষ্কদা একটু জল। চিকনা জলের বোতলটা নিয়ে আয়। অনি তুই ওপরে চলে যা। কনিষ্কর এই গলা সবার কাছে অপরিচিত। কেরে কনিষ্ক। বটার গলাটা গম গম করে উঠলো। টনা। ভাসিলা ভেঁড়ি। হ্যাঁ। ওটা আবার এতো রাতে এখানে কোথা থেকে এলো। বলছি বটাদা, সব বলছি। টনা হাঁপাতে হাঁপাতে বলে উঠলো। ইসলামভাই অবাক হয়ে কনিষ্ক আর বটার দিকে তাকিয়ে আছে। অনি তুই ওপরে চলে যা। কনিষ্ক গুরু গম্ভীর গলায় ফের বলে উঠলো। আমি আর দাঁড়ালাম না। সোজা ওপরে চলে এলাম। পেছন পেছন সবাই। দেখলাম অরিত্র ফোনে কার সঙ্গে কথা বলছে। আমি সোজা চলে এসে অনিমেষদা বিধানদার পায়ের কাছে বসলাম। মাথা নীচু। মিত্রা ইশি দাঁড়িয়ে। বুঝলাম এই টুকু দৌড় ঝাঁপে ওরা হাঁফিয়ে গেছে। ঘরের সবাই চুপ চাপ। তুমি আমাকে ক্ষমা করো দাদা। আয় পাশে উঠে বোস। আমি তোমায় অনেক অ-কথা কু-কথা বলেছি। সেতো তুই পার্মিসন নিয়েই বলেছিস। রাগ করিনি। ছোট। বিধানদা চেঁচিয়ে উঠলো। হ্যাঁ দাদা। একটু চা খাওয়াবে। এতো রাতে। বিধানদা হো হো করে হেসেফেললো। অনির ফুলশয্যা হচ্ছে, আমরা পাহারা দিচ্ছি। যাও যাও একটু কড়া করে বানিয়ে নিয়ে এসো। অমিতাভবাবু। বলুন। আপনার পকেটে সিগারেটের প্যাকেট আছে। দিচ্ছি। মল্লিকদা ঘরের মধ্যে ঢুকে টেবিলের ওপর থেকে সিগারেটের প্যাকেট আর এ্যাসট্রেটা সেন্টার টেবিলে রাখলো। দুজনে দুটো সিগারেট বার করে ধরালো। সবাই কেমন যেন বিস্ময়ে তাকিয়ে আছে। কিরে তোরা গিয়ে খাটে বোস। ভয় পাওয়ার কিছু নেই। ও সব কাজ সেরে রেখেছে। সিগারেটে একটা টান মারলো। কি বিধানবাবু ভুল কথা বলেছি। না। রামের কাছে হুনুমান গিয়ে যেমন সব শেষে বোলতো প্রভু অনুমতি দিন। ও সেরকম ভাবে বসে আছে। অনিমেষদা ধোঁয়া ছাড়তে ছাড়তে বললো। অনিমেষদার কথায় সবাই ফিক ফিক করে হাসছে। সুতপা, মুখ ভেটকে দাঁড়িয়ে রইলে কেনো। ভেতরে এসো। বোসো। সুরোমাকে দেখছি না। নিচে, ঘুমিয়ে পরেছে। যাক রক্ষে। লাইভ দেখলে মাথা খারাপ করে দিতো। বৌদি ভেতরে এলো। অনিমেষদা আমার দিকে তাকিয়ে বললো। আর ওখানে বসে থেকে লাভ নেই এবার পাশে বোস। আমি উঠে দাঁড়িয়ে দু’জনের মাঝখানে বসলাম। কিরে আমরা চা খেতে খেতে তোর বাকি কাজ গুলো সেরে নে। অনিমেষদা বললো। আমি মাথা নীচু করে বসে আছি। আমিতো বলছি। যানা অনি রেকর্ডিংগুলো ল্যাপটপে ট্রান্সফার করে সিমটা দে। অনুপদা বললো। আমি তাকালাম। তুইতো বিয়ে করলি না, যেনো যুদ্ধ করলি। অনুপদা বললো। অরিত্র। হ্যাঁ দাদা। অরিত্র দ্বীপায়ণ ঘরের মধ্যে এসে ঢুকলো। দেখছেন বিধানবাবু কোনো টেনসন দেখতে পাচ্ছেন মুখে। অনিমেষদা ওদের দিকে তাকিয়ে বললো। বিধানদা মুচকি মুচকি হাসছেন। আমি পকেট থেকে মাবাইলটা বার করলাম। দ্বীপায়ন এগিয়ে এলো। হাত থেকে মোবাইলটা নিয়ে মিত্রার দিকে একবার তাকালো। যাও, দরজা খোলা আছে। মিত্রা বললো। ইসি চারদিক চেয়ে চেয়ে দেখছে। ফ্যাকাশে মুখ। যেনো হাসতেও ভুলে গেছে। বরুণদা গেটের মুখে গম্ভীর হয়ে দাঁড়িয়ে। ইসলামভাই গেটের কাছে এসে দাঁড়ালো। কাজ শেষ হোলো ইসলাম। অনিমেষদা বললেন। আমায় কিছুই করতে দিলো না। তার মানে। কনিষ্ক বটার পরিচিত। আমাকে বললো তুমি ওপরে চলে যাও। তারমানে! দলে সরকারী ডাক্তারও আছে। অনিমেষদা এমনভাবে বললো এবার দেখলাম সবাই হেসে ফেললো। ও অনিমেষ একটা কিছু করো। বড়মা মুখ খুললো। অনিমেষদা আমার দিকে তাকালো। কিরে দিদি কি বলছে। আমার জন্য কিছু বাকি রেখেছিস ? আমি চুপচাপ। অনিমেষদা বড়মার দিকে তাকালো। দিদি আপনিতো এতোক্ষণ সব দেখলেন, কিছু বুঝতে পারলেন না। কই দেখলুম সব শুনলুম। গা তো হিম হয়ে যাচ্ছে। রাজাকে ও চেক দিয়েছে। রাজার একঘরও নড়া চড়া করার শক্তি নেই। নয় গেম হারো। নয় রাজাকে খোয়াও। কি বুঝলেন। আমরা সব বোড়ে। ইসলাম পর্যন্ত। অনিমেষদা বললেন। ছোটমা চা নিয়ে ঘরে ঢুকলো। এসো এসো ছোট চা টা না খেলে মাথা খুলবে না। বিধানদা বললেন। ইসি উঠে এলো। মিত্রা ভেটকে বসে আছে। টিনা মিলি ভেতরে এলো। হাতে হাতে সবাইকে চায়ের কাপ এগিয়ে দিলো। বিধানদা চায়ে চুমুক দিয়ে আঃ করে উঠলো। বেশ ভালো বানিয়েছো ছোট। ছোটমা একবার হাসলো। আমার দিকে তাকালো। এখন আর সেই আতঙ্ক মুখে নেই। ডাক্তারদাদা চুপ করে খাটের এক কোনায় বোসে। বুঝলে অনিমেষ যা শুনলুম অনির নেটওয়ার্কটা বেশ মজবুত। মাছি গলতে পারবে না। ওর সিপাইগুলোরও, মাথা খুব পরিষ্কার। বিধানদা বললেন। হ্যাঁরে মুখার্জীর লোকজন চলে এসেছে, না এখনো আছে। ওখানে মুখার্জীর লোক নেই। তারমানে! অনিমেষদা আমার দিকে অবাক বিষ্ময়ে তাকালেন। ঘরের সবাই নড়ে চড়ে বসলো। মিত্রা এতোক্ষণ পা ঝুলিয়ে বসেছিলো। এবার বাবু হয়ে বসলো। নিশ্চিন্তে চায়ে চুমুক দিচ্ছে। তাহলে এরা কারা। সিবিআই-এর লোকজোন। তুই কি এদের ইনফর্মার। আমি হেসে ফেললাম। বলনা একটু শুনি। মুখার্জী রাতে এলো। ওর লোকজোন এলো। অতো যত্নআত্তি করে খাওয়ালি দাওয়ালি। ওকে কাজটা দিলি না! বাইপাস করে সিবিআই ঢুকিয়ে দিলি। আমি মাথা নীচু করে আছি। ওদেরকে ফোন করে বলে দিলে ফিরে আসবে ? আমি চুপ করে আছি। কি দিদি ছেলের মনের কথা কিছু বুঝছেন। অনিমেষদা বড়মার দিকে তাকালো। আবার আমার দিকে ফিরে তাকালো। তুইকি আমাদের এখানে বসিয়ে রেখে কাজ সারছিস। না। তোমরা বললে শুরু করবো। আমরা যদি না বলি ওদের চলে আসতে বলবি। ওরা চলে আসবে, কাল গট আপ গেম খেলবে। এনকাউন্টার! আমি চুপ করে রইলাম। তোর থার্ড অপসন বল। এখনো কিছু ঠিক করিনি। ওই মেয়েটার মুখের দিকে একবার তাকা। আমরা সবাই ফালতু। ও তো তোর বিয়ে করা বউ। আমি কি নিজের জন্য করছি। চেঁচিয়ে উঠলাম। হক কথার এক কথা। বিধানবাবু আমার মুখ বন্ধ। এবার আপনার কিছু জিজ্ঞাস্য থাকলে ওকে করুণ। কি বলবো অনিমেষ, গায়েতো গন্ধ আছেই। সব শুনে এক ঘর লোকের সামনে অস্বীকার করি কি করে। মিটিং-এ বক্তৃত্বা দিতে হলে সব নস্যাত করে দিতাম। দ্বীপায়ণ ফোনদুটো নিয়ে ঘরে ঢুকলো। আমার হাতে দিলো। আমি মিত্রার ফোন থেকে চিপটা অদল বদল করে দিতে বললাম। অরিত্র ঘরে ঢুকলো। অনিদা পার্মিসন চাইছে। কি বলবো। অরিত্রর দিকে তাকালাম। হ্যাঁরে ছেলেটাকে মেরেদেবে নাতো। অনিমেষদা আমার দিকে তাকালো। উনি যদি আমাকে মারতে চান আমি ছেড়েদেবো কেনো। চেঁচিয়ে উঠলাম। তুই রেগে যাস না। ভয় লাগে। অনিমেষদা এমনভাবে বললো, হেসে ফেললাম। অনুপ, অশ্বিনীনগরের খবরটা আমাদের কাছে ছিলো না। অনুপদা অনিমেষদার কথায় মাথা দোলালো। হ্যাঁরে অনি তুই এই খবরটা পেলি কোথায়। বৃহস্পতিবার পার্কস্ট্রীটে এ্যাসিয়াটিক সোসাইটির তলায় একটা ভিখারীর সঙ্গে বুবুন বসে বসে কথা বলছিলো। আমরা দেখেছি। ডাক্তারদাদা বললো, ও ভিখারী নয়। রাতে ওকে জিজ্ঞাসা করতে ও রেগে গেলো, বললো আইবির লোক। মিত্রা কট কট করে বলে উঠলো। অনিমেষদা মাথায় হাত দিয়ে বসলেন। বিধানদা মিটি মিটি হাসছেন। রূপায়ণদা অনুপদা গম্ভীর থাকার চেষ্টা করেও হেসে ফেলছে। অনি। গেটের মুখ থেকে কনিষ্ক ডেকে উঠলো। আমি উঠে দাঁড়ালাম। তুই উঠলি কেনো, বোস। অনিমেষদা বলে উঠলো। আয় বাবা ভেতরে আয়। অনিমেষদা কনিষ্ককে ভেতরে ডাকলেন। কনিষ্ক ভেতরে এলো। তোর আর দুই বন্ধু কোথায় ? নীচে আছে। ওরা কারারে বাবা। প্রবীর বাবুর লোক। কোথায় থাকে। ভাসিলা ভেঁড়ি। তোদের চিনলো কি করে। অনির মাধ্যমে। কি কোরে সেটাই জিজ্ঞাসা করছি ? আপনাদের অপনেন্ট পার্টির সঙ্গে ওদের মারপিট হোতো এলাকা দখল নিয়ে, ওরা ইনজিওর্ড হলে অনি ওদের তুলে আনতো। আমরা ট্রিটমেন্ট করতাম। সেই থেকে পরিচয়। কজন এসেছে। দুজন। একটাকে নিয়ে আসতে পারবি। ডাকছি। কনিষ্ক বেরিয়ে গেলো। কি বিধানবাবু সরকারী হাসপাতালের ডাক্তার দেখছেন। এরা নিশ্চই ভেতরে ভেতর আমাদের সংগঠন করে। না হলে অনির কথায় এ ধরনের কাজ করবে না। মুখ চোখ ফোলা হাতে ব্যান্ডেজ বাঁধা একটা ছেলে ঘরে ঢুকলো। হাতজোড় করে হাউ মাউ করে কেঁদে উঠলো। স্যার বিশ্বাস করুণ অনিদার নামটা আগে জানলে এ কাজ করতুম না। তুই থামবি। কনিষ্ক ধমকে উঠলো। বোস বোস। টনা নিচে মাটিতে বসে পরলো। তুই অনিকে চিনলি কি করে ? অনিদা আমাদের ভেঁড়ি এলাকায় যায়। কেনো যায় ? অনিদা আমাদের সংগঠনটা কি করে বারাবো তার বুদ্ধি দেয়। তার বিনিময়ে অনিদাকে আমরা নিউজ দিই। তোরা কোন সংগঠন করিস। টনা বোললো। কোন ব্রাঞ্চ। ভাসিলা এক নম্বর। অনিদা আমাদের পার্টির মেম্বার নয় এটা জানিস। অনিদা কোনো খারাপ বুদ্ধি দেয় না। অনেক লেখাপড়া জানা ছেলে অনিদার জন্য আমাদের সংগঠনে এসেছে। ওখানে অনিদা সকলকে পড়ায়। কনিষ্কদা বটাদা নীরুদা অনিকেতদা সবাই যায়। চব্বিশঘন্টা জলে পরে থাকি ছেলেমেয়েদের রোগে চিকিৎসা করে, ওষুধ দেয়। পয়সা নেয় না। একি বলছেন স্যার। টনা কানে হাতদিলো। তোকে কনিষ্ক শিখিয়ে পরিয়ে নিয়ে এলো। টনা আবার কান ধরে। কাল আমার বউ আমাকে মারবে স্যার। হাউ মাউ করে কেঁদে উঠলো। কেনো রে! যদি জানতে পারে আমি অনিদার খবর নিতে এসেছিলাম। অনিমেষদার সাথে সাথে সবাই হেসে ফেললো। অরিত্র। অনিমেষদা চেঁচিয়ে উঠলো। অরিত্র ঘরে ঢুকলো। ওদের গ্রীণ সিগন্যাল দিয়ে দে। দু’জায়গাতেই। অনিমেষদা বললো। দেখলাম ঘরে সবার মুখের চেহারা বদলে গেলো। অনুপ ফোনগুলো অন কর। এবার বাজতে শুরু করবে। বিধানদা বললো। হ্যাঁরে অনিকে তোর বউ ভালোবাসে। গতো মাসে আমার ছেলের ভাতে অনিদা আমার বাড়িতে জলঢালাভাত খেয়ে এসেছে। বলেছিলো পরে গিয়ে গরমভাত খাবে, আর যায় নি। আমার মুখ ফোলা দেখলে জিজ্ঞাসা করবে। মিথ্যে কথা বললে মনা বলে দেবে। মনা কে রে! নিচে আছে। ও ভাসিলা দুনম্বর ভেরি দেখে। আমার সম্বন্ধি। ও অনিকে চেনে। হ্যাঁ চেনে। আবার কাঁদে। তোকে কে ব্যান্ডেজ বাঁধলো। নীরুদা। ছোট ঘুম তো হলো না। একটু চা খাওয়াবে। বিধানদা আবার বোললো। ছোটমা হাসতে হাসতে উঠে দাঁড়ালো। অরিত্র ঘরে ঢুকলো। হাতে ফোন। তোমার সঙ্গে একটু কথা বলবে। আমার হাতে ফোনটা দিলো। হ্যাঁ বলুন সিং সাহেব। একবারে পরিষ্কার করে দেবো। বাংলায় হিন্দী টান। সবাই শুনছে। ভিখিরী করে দিন। ওদিকেরটা। ওটা ঘন্টা খানেক আগে খতম করে দিয়েছি। কেউ পরেছে। না একবারে ঠান্ডা ঠান্ডায় হয়ে গেলো। কালকে সিনপসিসটা পাঠান। ঠিক আছে। ওই চারটেকে দিন। কাজ শেষ হলে শ্যামবাজারের পাঁচ মাথার মোড়ে চলে আসবেন। ঘোঁড়ার ল্যাজ যেদিকে সে দিকে দাঁড়াবেন গাড়িতে তুলে দেবো। আমরা ঘন্টা খানেকের মধ্যে কাজ সেরে নিচ্ছি। কাগজপত্র আছেতো। সব স্পেশ্যাল ভাবে দিল্লীথেকে তৈরি করে আনিয়েছি। ঠিক আছে। অরিত্রর হাতে ফোনটা দিলাম। অরিত্র ফোনটা নিয়েই টেপাটেপি করে নিলো। তোরা একেবারে অনিদার মতো তৈরি হয়েগেছিস না। নো টেনসন ডু ফুর্তি। অনিমেষদা বললো। বৌদি হাসছে। বিধানবাবু এবার দেখছেন সুতপার মুখটা কেমন হাসি হাসি। বিধানদা মিটি মিটি হাসছে। কিরে অনুপ অনিকে আমাদের পার্টির সদস্য পদটা দিবি। ভাবছি কামিং ইলেকসনে ওকে এমপি বানাবো কিনা। ওর জন্য কোনো প্রচারের দরকার নেই। আমরা খাটবো স্যার। হায় হায় এ ব্যাটা বলে কিরে অনুপ। টনার দিকে তাকিয়ে। তোদের ওখানে গোপাল আছে না। গোপালদা, অনিদাকে ভয় পায়। কেনো। কয়েকদিন আগে অনিদা কাকে মেরে দিয়েছে। কাগজে খপর বেরিয়েছে। গোপাল ওপারে চলে গাছে। ওপারে মানে। খুলনায় চলে গেছে। কেনো। যদি অনিদা মেরে দেয়। তাহলে অনিদা তোদের দাদা বল। না না, অনিদা, অনিদা। ছোটমা চা নিয়ে ঘরে ঢুকলো। এবার মিত্রা উঠে এলো। সবাইকে চা দিচ্ছে। আমি উঠে দাঁড়ালাম। তুই যাচ্ছিস কোথায়। অনিমেষদা বলে উঠলো। একটু আসছি। এগিয়ে যেতে টনা পা ধরে ফেললো। আবার কান্না। কি হলো বলবিতো। তুমি একটু মনাকে বলে দাও। মনা কোথায়। নিচে। ছাড় বলেদিচ্ছি। সকালে হাসপাতাল গিয়ে ওষুধ নিয়ে যাবি। আমি দুটো ফুঁড়ে দিয়েছি। নীরু চেঁচিয়ে উঠলো। ওই দেখুন বিধানবাবু এতোক্ষণ গলা পেয়েছিলেন ? এখন একটু একটু গলার স্বর বেরোচ্ছে। বিধানদা হো হো করে হেসে ফেললো। বুঝলে ছোট, তোমাদের এখানে শোবার জায়গা থাকলে আর বাড়ি ফিরতাম না। কেনো আমার অতোগুলো ঘর ফাঁকা পরে আছে। ডাক্তারদাদা চেঁচিয়ে উঠলো। ডাক্তারবাবু ঠিক কথা বলেছেন। আপনারা দুজনেই কুমার অসুবিধা নেই। অনিমেষদা বললেন। সবাই হো হো করে হেসে ফেললো। ওরে যাচ্ছিস যা মারার অর্ডারটা দিস না। অনিমেষদা কথাটা ছুঁড়ে দিল। আমি বেরিয়ে এলাম। ইসির সঙ্গে বারান্দায় দেখে হলো। বরুণদা ও নীচু স্বরে কথা বলছে। আমার পথ আটকালো। যা নিচে গিয়ে শুয়ে পর। ইসি আমার দিকে তাকালো। কি দেখছিস ওমন করে। তোকে ছুঁলে মনে হয় অনেক জম্মের পাপ থেকে মুক্ত পাবো। যা একটু শুয়ে পর, বরুণদার কাল অফিস আছে। যাবে না। জ্যেঠিমনি কোথায় ? আর টেনসন নিতে পারলো না। ঘুমের ওষুধ দিয়ে ঘুমপারিয়ে দিয়েছি। কে দিলো। তোর নীরু ডাক্তার। হাসলাম। হাসলি যে। এমনি। সিঁড়ি দিয়ে নিচে নেমে এলাম। কনিষ্ক পাশে পাশে এলো। নিচে আসতেই চিকনা জড়িয়ে ধরলো। সবাই ঘিরে ধরেছে। রতন আবিদ নেপলা সাগির অবতার কাকে বাদ দেবো। একটা সিগারেট দিবি। বটাদা। চিকনা চেঁচালো। বটা এগিয়ে এলো। সিগারেট দিলো। রতন। বলো দাদা। ওমকে একবার ফোন কর। ওম ওখানথেকে মালদের নিয়ে হাওয়া হয়ে গেছে। কেনো। আবিদ কি গন্ধ পেয়েছে। এখন কোথায় আছে। পিলখানায়। আবিদের খাশ ডেরায়। ওদের হ্যান্ডওভার করতে হবে। কাজ শেষ! হ্যাঁ। রতন দু’হাত তুলে একবার ঝাঁকুনি দিলো। মনা কোথায়রে ? নিচের ঘরে শুইয়ে রেখেছি। নীরু বললো। কেনোরে। মারটা একটু বেশি পরে গেছে দাদা। নেপলা মাথা নীচু করে বললো। ভাঙ্গা ভাঙ্গি করিসনিতো। না চোখটা একটু কালসিটে পরে গেছে। ছাগল তুই থাকতে এতোটা মারলো কেনো। কনিষ্কর দিকে তাকালাম। ওরে আমি তুই নিচে নামার আগেই কাজ সেরে দিয়েছে। চল দেখি। আমি নিচেরে ঘরে এলাম। দেখলাম মনা গুটি সুঁটি মেরে শুয়ে আছে। আমি ওর পাশে বাবু হয়ে বসলাম। সত্যি বেচারার মুখটা ফুলে একাকার হয়ে গেছে। আমি মাথায় হাত রাখলাম। মনা। মনা চোখ চাইলো। ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠলো। আমি অন্যায় করে ফেলেছি দাদা। কাঁদে না। শালা প্রবীরকে কালই হাঁসুয়াদিয়ে টুকরো করে দেবো। আমি ওর মাথাটা কোলে তুলে নিলাম। আস্তে আস্তে মাথায় হাত বুলিয়ে দিলাম। পাগল, আগে আমার নামটা বলবিতো। কি করে জানবো। এটা তোমার বাড়ি। সেই তুমি গেলে একমাস আগে ভাগ্নীর অন্নপ্রাসনে আর গেলে না। কেনো, কনিষ্করা যায় নি। একমাত্র অনিকেতদা গেছিলো দুবার। বললো তোমার সঙ্গে দেখা হয় নি। কথা বলিস না। কষ্ট হবে। শালা ওর জন্য মার খেলাম। নীরুদা ওষুধ দিয়েছে। হ্যাঁ। একটু ঘুমো। কাল সকালে বাড়ি পৌঁছে দেবো। আজ রাতেই ফিরবো। কাল মিটিং আছে। ঠিক আছে কনিষ্কদা পৌঁছে দিয়ে আসবে সকালে। কিছু খেয়ে বেরিয়েছিলি। সেই দুপুরে বেরিয়েছি। কনিষ্ক দেখনা কিছু খাবার আছে কিনা। অনেক আছে। যা টনাকে নিয়ে আয়। দু’জনকে বসিয়ে দুটো খেতে দে। চিকনা দৌড়ে বেরিয়ে গেলো। ওরা আমাকে ঘিরে ধরে দাঁড়িয়ে আছে। চোখটা ছল ছল করে উঠলো। তুমি কাঁদছো কেনো। মনা আমার হাতটা ধরে ফেললো। আমি অন্যায় করেছি শাস্তি দিয়েছে। কেনো অন্যায় করতে গেলি। না জেনে করে ফেলেছি দাদা। কিরে এখানে ভিড় করে কি করছিস সবাই। অনিমেষদার গলা। ভিড়টা একটু সরে গেলো। দেখলাম গেটের সামনে ওরা সবাই। আমাকে এই অবস্থায় দেখে ওরা এগিয়ে এলো মিত্রা এসে পাশে বসলো। মনা আধচোখ বন্ধ ফোলা মুখে তাকিয়ে তাকিয়ে মিত্রাকে দেখছে। তোর বৌদি। মনা উঠে বসতে গেলো। মিত্রার পা ছুঁতে চাইলো। একটু হাসির চেষ্টা করলো, পারলো না। দুফোঁটা জল চোখ দিয়ে গড়িয়ে পরলো। অনিমেষদা বিধানদা স্থানুর মতো দাঁড়িয়ে। তুই শুয়ে থাক। কিছু খেয়ে নে। আমি ওর চোখটা মুছিয়ে দিলাম। আস্তে করে ওর মাথাটা বালিসে রাখলাম। উঠে দাঁড়ালাম। অনিমেষদার দিকে তাকালাম। নিজের চোখে একবার দেখো, সত্যি কারের যারা পার্টিটাকে ভালোবাসে তারা এইভাবে মার খায়। আর বাবুরা এসি গাড়ি চড়ে। গমগম করে উঠলো আমার গলাটা। কোথাও দাঁড়ালামনা। কারুর দিকে তাকালাম না। ফোনটা বার করে ডায়াল করলাম। সিংজী কি খবর। কাম শেষ করলাম। এমন দিন মুখের জিওগ্রাফি যেনো বদলে যায়। বাকিটা আমি বুঝে নেবো। কি বলছেন অনিবাবু, এ আপনার রাগের কথা। আপনি না পারলে, আমি অন্য ব্যবস্থা করবো। ঠিক আছে ঠিক আছে। আপনি রাগ কিয়েন না। ক্যাশ কতো পেলেন। আরে রাম রাম। কি বলবে আপনাকে। জালি নোট ভি আছে। নেতা লোককা ঘরমে গন্ধী সিডি ভি আছে। আপনা পত্রকার যে এসেছে সে ভি বলে দু-একজনকে চেনে। কি বলতে চায় কি। ফরফরা রাহা হ্যায় বোলে কি হামি দিল্লিমে বাত করবে। উধার কই ক্যাবিনেট মিনিস্টার লোগোকে সাথ। হ্যাঁ ওকে তুলে নিয়ে চলে আসুন। এখন ফ্ল্যাশ করবেন না। কালকের দিনটা যাক তারপর দেখছি। হ্যাঁ আপনার অনিমেষবাবু ভি ওহি বোলা। হামারা সাথ বাত হুয়া। ঠিক আছে। হামার ওহি লোক। একমিনিট দাঁড়ান। আবিদ। দাদা দুমিনিট পর ফোন করলে হতো না। সিংজি মিনিট পাঁচেক বাদে আপনাকে ফোন করছি। আচ্ছা। অনিমেষদা কাছে এগিয়ে এলো। আমার হাতটা চেপে ধরলো। অনুপদা আমার সামনে। কেউ কোনো কথা বলছে না। ফ্যাল ফ্যাল করে আমার দিকে তাকিয়ে। আবিদ ছুটে এলো, দাদা ওম রুবীর সামনে দাঁড়াচ্ছে। এই গাড়ির নম্বর। আমি আবার সিংজীকে ফোন করলাম। হ্যাঁ বলেন অনিবাবু। গাড়ির নম্বর লিখুন। হ্যাঁ বলেন। গাড়ির নম্বর বললাম। ওরা রুবীর সামনে দাঁড়াবে আপনার গাড়িতে তুলে দেবে। ঠিক আছে অনিবাবু। কাজ শেষ হবার পর আমাকে একবার জানাবেন। ফোনটা কেটে সেভ করলাম। অরিত্র। হ্যাঁ দাদা। ওখানে কে আছে। সায়ন্তন আর অর্ক আছে। অর্ক কখন গেলো। তুমি যখন দাদাদের সঙ্গে কথা বলছিলে। কাজ হয়ে গেলে চলে আসতে বল। নিউজটা বেরোবে না। সব ডকুমেন্টস রেডি রাখ। সময় হলে বোলবো। আর কেউ খবরটা পাই নিতো। না। অনুপদার দিকে তাকালাম। অসুবিধে না হলে। ডাক্তারদাদার বাড়িতে গিয়ে একটু শুয়ে পরো। কাল সকালে কথা বলবো। কারুর দিকে তাকালাম না। সোজা নিজের ঘরে চলে এলাম। ঘর অন্ধকার। রাস্তার নিওন আলোর কিছুটা ঘরে এসে পরেছে। টেবিলের ওপর রাখা সিগারেটের প্যাকেট থেকে একটা সিগারেট বার করলাম। সোজা জানলার ধারে চলে এলাম। আমার সবচেয়ে প্রিয় জায়গা। টনা, মনা। শালা সম্বন্ধি। দুজনে ওই এলাকার নেতা। ডাকসাইটে এলাকার দাদা। এদের ভয়ে কেউ ওই তল্লাটে রা করতে পারে না। ইস তাদের কি অবস্থা করে ছেড়েছে এরা। কিন্তু দুজনে কতো ভালো। মনে পরে যাচ্ছে প্রথম দিনকার কথা। আমি গেছিলাম চিংড়ি মাছ নিয়ে লিখতে। ওদের ভেঁড়ি থেকে চিংড়িমাছ বিদেশে রপ্তানী হয়। কিভাবে চাষ হয়, কতদিন লাগে, কতটুকু অংশ বিদেশে যায় এই সব। নতুন কেউ এলাকায় পা রাখলেই টনার কাছে প্রথমে খবর চলে যায়। তারপর মনার কাছে। অনেক নোংরামি ওই ভেঁড়ি এলাকায়। ফলে মানুষগুলোও কিছুদিনের মধ্যে নোংরা হয়ে যায়। ওদের মন বলে আর কিছু থাকে না। সারাদিন ভেঁড়িতে, রাতে মদ জুয়া মেয়ে নিয়ে নোংরামি। কি নেই। আস্তে আস্তে ওদের মধ্যে ঢুকলাম। মাথার পোকাটা নরে উঠলো, মানুষের ভালো করতে হবে। একদিন টনাকে বললাম, এখানে একটা স্কুল করনা, বাচ্চাগুলো একটু লেখা পরা শিখুক। রাখোতো তুমি অনিদা। তার থেকে ভেঁড়িতে জাল টানলে দুটো পয়সা আসবে। অনেক বুঝিয়ে শুনিয়ে একটা স্কুল করলাম। তাও আবার ভেঁড়ির ধারেই পাহারা দেবার একটা টংয়ে। চারদিক খোলা। শীতকালে খোলা মাঠে। ওদের সঙ্গে যতোক্ষণ থাকতাম আমি উনা মাস্টার ওরা অনি হয়ে যেতো। নিজের দুষ্টুমিগুলো ওদের মধ্যে দিয়ে দেখার চেষ্টা করতাম। বেশ ভালো লাগতো। প্রথম প্রথম কনিষ্করা যায় নি। ওদের ভাড়ি ধরণের শরীর খারাপ হলে, চিঠি লিখে কনিষ্কদের কাছে পাঠাতাম। পরে একদিন কনিষ্ক বললো, আমাদের নিয়ে চল। ওদের নিয়ে এলাম। টনা মনার সে কি আনন্দ। ওরা প্রস্তাব দিলো, একটা ঘর করে দে। আমরা সপ্তাহে সপ্তাহে কেউ না কেউ আসবো। তোদের চিকিৎসা করবো। ওষুধ হাসপাতাল থেকে নিয়ে আসতো। কিছু শ্যাম্পেল কপি ওদের দিতো। সারাদিন টেনসন কাজের চাপের মধ্যে যখন নাভিশ্বাস উঠে যেতো ওদের ওখানে চলে যেতাম। কয়েকঘন্টা বেশ ভালো কাটতো। খাওয়া জুটতো কলাই করা থালায় মুড়ি বেগুনি। একেবারে ঘরের তৈরি। খোলা আকাশের তলায় জলের ধারে বসে আমরা আড্ডা মারতাম। কখনো কখনো ওরা চিংড়িমাছ ধরে ভেজে খাওয়াতো। আমার মতো কনিষ্ক বটা নীরু অনিকেত সবার মধ্যে একটা নেশা ধরে গেলো। ভালোপাহাড়ের মতো এটাও আমাদের একটা এনটারটেনমেন্টের জায়গা। এদিকে জড়িয়ে পরার পর আমি মাঝে মাঝে যেতাম, কনিষ্করা রেগুলার যাওয়া আসা করতো। আমাদের কিছু চাওয়ার ছিলো না। তাই ভালোবাসা কাকে বলে ওরা উজার করে দিতো। ওরা বাম রাজনীতিতে বিশ্বাস করতো। আমরা সবাই করতাম, ফলে মনের মিল হলো। ওদের বুদ্ধি দিতাম কি ভাবে চলবি। তার ফল ওরা হাতে নাতে পেতো। আমরা হয়ে পরলাম ওদের বিশ্বাসের স্থল। বেশ কাটছিলো। গতমাসেই তো টনার মেয়েটার অন্নপ্রাসনে হাজির হয়েছিলাম। মনের মধ্যে প্রচন্ড টেনসন। কি করবো, হঠাৎ হাজির, গিয়ে দেখি টনার মেয়ের অন্নপ্রাসন। ওর বউ কিছুতেই ছাড়বে না। আমারও কাজ আছে। চলে আসবো। বাধ্য হয়ে পান্তা খেয়ে চলে এলাম। ওর বউটা কাঁদছিলো। অনিদা তোমাকে গরমভাত খাওয়াতে পারলাম না। বলেছিলাম পরে একদিন এসে খেয়ে যাবো। সেই শেষ যাওয়া। আর আজ। বুকের ভেতর কে যেনো পাথর চাপা দিয়ে রেখেছে। নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে। জানলার ধাপিতে হাতটা রেখে মাতা নীচু করে দাঁড়িয়ে ছিলাম। অন্ধকারের মধ্যেও আমগাছের পাতা গুলোকে পরিষ্কার দেখতে পাচ্ছিলাম। ঘরের লাইটটা জ্বলে উঠলো। ফিরে তাকালাম। গেটের মুখে বড়মা ছোটমা বৌদি মিত্রা ইসি। জোড় করে হেসেফেললাম। জানলা থেকে পায়ে পায়ে এগিয়ে এলাম। কাছে এসে দাঁড়ালাম

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *