গর্ভপাত নয়, প্রয়োজন যৌন শিক্ষা (শিক্ষামূলক লেখা)

মধ্যপ্রাচ্যের সুইজারল্যান্ড কোন দেশকে বলা হতো জানেন? উত্তরটা হলো লেবানন৷ সৌন্দর্য্যের পাশাপাশি মানুষের মাঝে ছিল না কোনো কুসংস্কার৷ কিন্তু বর্তমানে গর্ভপাতের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করায় জটিলতায় পড়েছেন সেখানকার নারীরা৷
বিবাহের আগে যৌন সম্পর্ক এবং এ কারণে গর্ভধারণ লেবাননের সমাজে গ্রহণযোগ্য নয়, কেননা তা ধর্মবিরোধী৷ একইসাথে সেখানে গর্ভপাত কেবল অবৈধই নয় একেবারে নিষিদ্ধ৷
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ১৯ বছর বয়সি এক নারী ডয়চে ভেলেকে জানিয়েছেন, বিয়ের আগে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েছিলেন তিনি৷ তাই বাধ্য হয়ে দারস্থ হয়েছিলেন প্রাইভেট ক্লিনিকের৷ নিজের অর্থ না থাকায় বন্ধুদের কাছ থেকে ৩৭০ ইউরো জোগাড় করে
ক্লিনিকের ব্যয় মেটাতে হয়েছিল৷ কিন্তু ক্লিনিকটি ছিল অপরিচ্ছন্ন এবং চিকিৎসক মোটেও অভিজ্ঞ ছিলেন না বলে জানান ঐ নারী৷ কিন্তু সমাজের ভয়ে গর্ভপাতে বাধ্য হয়েছিলেন৷
বিবাহের আগে যৌন সম্পর্ক এবং এ কারণে গর্ভধারণ লেবাননের সমাজে গ্রহণযোগ্য নয় (প্রতীকী ছবি)
লেবাননের আইন অনুযায়ী, কেবল মার জীবন বাঁচানোর খাতিরে গর্ভপাত বৈধ৷ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বৈরুতের এক গাইনোকলোজিস্ট জানিয়েছেন, প্রতি মাসে তিন থেকে চার জনের গর্ভপাত করিয়ে থাকেন তিনি৷
যৌন শিক্ষার অভাব
লেবাননের প্রথম যৌনবিদ বা সেক্সোলজিস্ট সানদ্রিনে আতাল্লাহ মনে করেন, তাঁর দেশে যৌন শিক্ষার অভাবই নারীদের অনিচ্ছাকৃত গর্ভধারণের কারণ৷ তিনি জানান, লেবাননের কোনো অবিবাহিত মেয়ে কখনো গাইনোকলোজিস্টের কাছে যান না৷ আর স্কুলে কেবল জীববিদ্যা পড়ানোর সময় অল্পকিছু বিষয় থাকে, যা শিক্ষকরা বিস্তারিত পড়ান না, বরং এড়িয়ে যান৷
সানদ্রিনের বক্তব্যের সাথে একমত প্রকাশ করেছেন লেবাননের গাইনোকলোজিস্ট মোনা হাশেম-বারুদ৷ মোনা জানান, গর্ভনিরোধক পদ্ধতি এবং যৌনতা নিয়ে নারীদের মধ্যে ভুল ধারণা প্রচলিত আছে৷ মায়েরাও তাঁদের ভুল তথ্য দিয়ে থাকেন৷ মায়েরা মেয়েদের বলেন, গর্ভনিরোধক পদ্ধতি, যেমন পিল ব্যবহার করলে বন্ধ্যাত্ব হতে পারে৷

আর্জেন্টিনায় গর্ভপাত – ট্যাবু ভাঙার নিরন্তর প্রয়াস
স্বাধীনতা…
‘শরীরটা আমার নিজের’ – আর্জেন্টিনার মেয়েরা এখনো স্বাধীনভাবে এ কথা ভাবতে পারেন না৷ গর্ভপাত সেখানে নিষিদ্ধ৷ তা সত্ত্বেও গর্ভপাত চলছে৷ ২৭ বছর বয়সি ক্যামিলাও গর্ভপাত ঘটিয়েছেন, তারপর নিজের ঘাড়ে এঁকেছেন উল্কি, সেখানে লেখা, ‘স্বাধীনতা’৷ তাঁর এ ছবি ‘১১ সপ্তাহ, ২৩ ঘণ্টা, ৫৯ মিনিট – আর্জেন্টিনায় অবৈধ গর্ভপাত’ শীর্ষক প্রদর্শনীতে দেখানো হচ্ছে৷

শারীরিক ও মানসিক ক্ষত

লেবাননের একটি ক্লিনিকে গর্ভপাত করাতে লাগে তিনশ থেকে ছয়শ ডলার৷ কিন্তু সরকারি হাসপাতালগুলোতে লাগে ৩ হাজার ডলার৷ তাই বেশিরভাগ নারী ক্লিনিকগুলোকেই বেছে নেন৷ এইসব ক্লিনিক স্বাস্থ্যসম্মত না হওয়ায় প্রায়ই শারীরিক অসুস্থতার শিকার হন নারীরা৷
লেবাননে গাইনোকলোজি সোসাইটির সভাপতি ডাক্তার ফয়সাল এল কাক জানালেন, তিনি এমন অনেক ঘটনা দেখেছেন,
যেখানে গর্ভপাতের সময় জরায়ু ভালোমত পরিষ্কার না করায় রক্তক্ষরণ অব্যাহত থাকে৷ অনেক সময় জরায়ুতে সংক্রমণ হতে দেখা যায়৷ কোনো কোনো সময় এমন পরিস্থিতি দাঁড়ায় মেয়েটির জরায়ু অথবা তার জীবনের মধ্যে একটিকে বাঁচাতে হবে৷
কিন্তু সমাজে পরিবারের মুখ রক্ষার জন্য লেবাননের নারীরা এসব ঝুঁকি নিতে বাধ্য হচ্ছেন৷ এর ফলে শারীরিক সমস্যার সাথে সাথে মানসিক স্বাস্থ্যেনরও অবনতি হচ্ছে তাঁদের৷
কেবল যে সরকার এসব ঘটনায় ভ্রুক্ষেপ করছে না এমন নয়, বেসরকারি সংস্থাগুলোরও একই অবস্থা৷ তারা এই পরিস্থিতি পরিবর্তনের কোনো চেষ্টা করছে না৷

 

Leave a Reply