বাসর রাতে যা বলে সদ্য বিবাহিত বউয়ের সাথে কথপোকথন নিয়ম (উপদেশ)

আজকের এই ফুলে ফুলে সাজানো বাসর রজনীতে তোমাকে প্রথমে জানাই আমার এতো বছরের সঞ্চিত হৃদয়ের সব-টুকু ভালবাসা।যা এতো বছর আমি তিল-তিল করে অন্তরের গভীরে যত্ন করে লুকিয়ে রেখেছি শুধু তোমাকে দিব বলে।আজ থেকে এই জীবনের দাবিদার তুমি।তুমি তোমার ভালোবাসা দিয়ে স্থান করে নাও।এই বার বলো তুমি কেমন আছো।এবং এতোটি বছর তুমি কোথায় কোন অচেনা নির্জন পথে লুকিয়ে ছিলে।তোমাকে কত যে খুঁজেছি চেনা – অচেনা পথে।অবশেষে আজ নিরবে-নিভুতে একাকি এই সুখের বাসরে খুঁজে পেয়ে মনটা আনন্দে আত্মহারা।আমি

জানতে পারিনি আমাকে তোমার পছন্দ হয়েছে কিনা?আমি তোমার মনের মাঝে স্থান পাব কিনা?যাক তোমাকে কি বলে সমন্ধন করবো ভেবে পাচ্ছি না।আর আমাকে নিয়ে যদি তোমার কোন ধরনের সংশয় থাকে,তা আমাকে স্পষ্ট বলতে পারো।ভেব না আমি তোমার ক্ষতি করবো।। আমাকে বন্ধু ভেবে সব কিছু খুলে বলতে পারো। যা-হোক আমরা কিভাবে আমাদের দাম্পত্য জীবন গড়বো সেইটা নিয়ে একটু আলোচনা করি।জিবন টা অনেক লম্বা।কখনো আবার অনেক ছোট।জীবন নদী কখনো কষ্টের হয়।আবার কখনো সুখের মহনায় ভেসে যায়।জীবন কে যেভাবে সাজাবে ঠিক সেই ভাবে জীবন চলবে।

জীবনের পথ কখনো খুঁজে পাওয়া যায় না।আবার কোন সময় দেখবে সহজ ভাবে পাওয়া যায়।কিন্তু জীবনের শেষ কোথাই কেউ বলতে পারবে না।এবং জীবনের মানে কি__নিজেকেই বুঝতে হবে।জীবনটা মুলত অনেক সুন্দর।সেই সুন্দর পথ পেতে হলে সাধনা করতে হবে।আর সব চেয়ে উত্তম ভাষ্য হল,নিজেই সেই তরী খুঁজে নিতে হয়।জিবনে চলার মাঝে নানান সমস্যার মুখামুখি হতে হয়।এবং সে-গুলু কে সুস্থ মস্তিষ্ক দিয়ে সুন্দর ভাবে সমাধান করতে হয়।ক্রোধ দিয়ে কোন কালেও কোন সমস্যা সমাধান করা সম্ভব নহে।মনে রেখ উত্তম ব্যবহার সবার কাম্য।যে ব্যক্তি কঠিন সমস্যা কে সুন্দর আচরণের মাধ্যমে সমাধান দিতে পারে।তাকে সবাই অধিক ভালবাসে এবং সমাজ তাকে বাহবা জানায়।আর যে ব্যক্তি সামান্যতম সমস্যা কে বড় আকার মনে করে, বিবাদের মাধ্যমে সমাধান করতে চায়।তাকে নিঃসহন্দে মানবজাতি ঘৃনার দৃষ্টিতে দেখে।তাই কখনো যদি সংসার জিবনে কোন সমস্যার মধ্যে পড়ো।তাহলে তোমার উত্তম বুদ্ধি দিয়ে সহজ ভাবে সমাধান করতে চেষ্টা করবে।তবে দেখবে তোমার সঠিক মেধার প্রয়োগ করার কারনে ,তোমাকে অনেকে তাদের হৃদয়ের মাঝে স্থান দিতে একটুও কৃপনতা করবে না। কয়েক ঘণ্টা আগেও তুমি ছিলে আমার একদম অচেনা।এখন হল আমার জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।আজ থেকে তোমাকে ঘিরে আমার সমস্ত চাওয়া-পাওয়া।এতো দিন তোমাকে ছাড়া বা তোমাকে না দেখে আমি ভালো ছিলাম।কিন্তু আজ থেকে যত দিন আমার নির্দোষ ভালোবাসার বাঁধন রবে।ঠিক তত দিন তোমাকে না দেখে আমার প্রহর কাটবে না।যেন তুমি হীন আমি অন্ধ।ওগো প্রিয়তমা তুমি বিনা আমি নিঃস্ব।তোমাকে কখনো অজানা পথে হারাতে দিব না।তুমি সারা জনম আমার ছোট্ট হৃদয়ে ফুটিয়ে থাকবে।হাজার জড়ের মাঝেও হারাতে দিব না ওগো মায়াবি তোমায় ।আর যদি কখনো হারিয়ে যাও আমার সাজানো জীবন থেকে।তাহলে জেনে রেখো , আমিও হারিয়ে যাবো এই সুন্দরময় জগত থেকে।তোমাকে পেয়ে যেমনি পৃথিবিতে চলার পথ খুঁজে পেয়েছি।পেয়েছি হাজারও উপমা।আমার ভুবন হয়েছে আলোকিত।তেমনি তোমাকে হারালে আমার উজ্জ্বল পৃথিবিতে তিমির রজনী নেমে আসবে।ভুল করেও তুমি আমাকে কষ্ট দিও না।সংসার জীবন বড়ই নির্মম ।এখানে মান-অভিমান,রাগ-অনুরাগ এবং অভিযোগ থাকবেই।থাকাটাই স্বাবাভিক।কিন্তু অতিরিক্ত শুভ লক্ষন নহে।সংসার জিবনে অনেক কিছুই হতে পারে।সব গুলু যেন তোমার-আমার মাঝে সীমাবদ্ধ থাকে।অপর ব্যক্তি যেন বুঝতে-জানতে না পারে।এইটা তোমার প্রতি আমার উপদেশ।আমার যতটুকু ধারনা বা আমি যত দূর জানি তাহল,একটি উত্তম নারি দিতে পারে হাজার বছরের সাজানো –গোছানো সোনার সংসার।যা দশজন পুরুষের পক্ষে সম্ভব নয়।অন্য দিগে আবার একজন হীনতা নারি দিতে পারে শুধু অশান্তিময় বিবাদযুক্ত এলোমেলো একটি সংসার।একজন কবি বলেছেনঃকোন কালে হয়নি গো জয়ী একা পুরুষের তরবারি,সাহস যুগিয়েছে অনুপ্রেরণা দিয়েছে একজন নারী। তেমনি এখন থেকে তুমি যদি আমার পাশে থাকো চিরদিন।এবং দুঃখ এলে সাহস দাও।তাহলে দেখো আমিও হবো জীবন যুদ্ধে জয়ী।আর যদি তুমি বিলাসিতা করো।তাহলে আমি হবো জীবন যুদ্ধে পরাজিত সৈনিক।মনে রেখো জীবনে বিলাসিতা মানে ধ্বংসের মূল চাবিকাঠি এবং অভিশাপ্ত শয়তানের মূলধারা ।সুতারাং জীবনে কখনো অযথা বিলাসিতা করো না।যা পাবে তা গ্রহন করে পালনকর্তার নিকট শুকরিয়া আদায় করবে।তাবে দেখবে তোমার যা স্বাদ্ধের বাহিরে,তা অনায়াসে হাতের নাগালে পেয়ে যাবে।কারন জগতের সব কিছু আমাদের সর্বশক্তিমান মহান আল্লাহ্ তা’য়ালা বণ্টন করেন।প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত সালাত আদায় করবে।শত ব্যস্ততার মাঝেও সালাত আদায় করতে ভুলবে না।সালাত ব্যতিত অন্য সব কিছুই বৃথা।আর শুনো সময় পেলে কোরআন-হাদিছের পুস্তুক পড়বে।জেনে রেখে মৃত্যু অনিবার্য।তাই মৃত্যুকে ভয় করো না,অনিয়ন্তিত জীবন-যাপন কে ভয় করো।পাপ যেন তোমাকে কোন কালেও স্পষ্ট করতে না পারে।মানবের উত্তোজিত রক্ত , উত্তোজিত হয়ে পাপীষ্ট করে।তাই সাবধান থেকো নিজের উপরে নিয়ন্ত্রন রেখো।তুমি আমার সাথে ভালবাসার বন্ধন গড়িও ,উত্তোজিত রক্তের নয়।

উত্তোজিত রক্ত মিলন ঘটায় এবং আকর্ষণ বাড়ায়।ফের যখন একসময় উত্তোজিত রক্ত শীতল হয়ে যায় বয়সের ভারে ।ঠিক তখন সর্বকিছু (মিলন,আকর্ষণ,সৈন্দুর্য ও পাপ) বিলীন হয়ে যায়।তুমি শুধু আমাকে অসিম ভালবেসো ,ভালবাসার গহীন অরন্যে।জীবনের মত করে আমাকে ভালবেসো না।কারন জীবন আজ আছে।তাই আজ তুমি শুধুই আমার।আমি তোমার পাশে আসবো জীবনের টানে।আমি তোমাকে বা তুমি আমাকে আদর করবে জীবনের নীড়ে।কিন্তু কাল আমি থাকব না জীবনের মধে।হারিয়ে যাবো আমি মরণের বুকে।তখন তুমিও আমাকে ভুলে যাবে।হয়তো অন্য জীবনের সাথে জীবন বাঁধবে।তবে যদি তুমি আমাকে মনের দামে ভালোবাসো।তাহলে শত চেষ্টা করলেও তুমি আমাকে ভুলতে পারবে না।আমি তোমার পাশে না থাকলেও প্রতিটি প্রহর একান্তভাবে আমাকে মনে পড়বে।আমি হীন তোমার পৃথিবি হবে ধুধু অন্ধকার।আমাকে না পেলে পৃথিবির কোন কিছু দিয়ে তোমার মন ভরবে না।।তাই আবার ও বলি তুমি আমাকে উত্তোজিত রক্ত এবং জীবনের মত ভালোবাসো না।শুধু ভালবাসার সদ্য গোলাপের মত করে,অন্তরের অন্তঃস্থল থেকে আমাকে ভালবেসো।কখনো আমি যদি তোমার সাধ্য মতো কিছু দিতে ব্যর্থ হই।ওগো তুমি ভালবাসার কারনে আমাকে ক্ষমা করে দিও।ভালবাসার মায়াবী নয়নে আমাকে আজিবন দেখ।ভালবেসে আপন করে তোমার ভালোবাসা ভরা বক্ষে লুকিয়ে রেখো।আমার অজস্র অপধার বা ব্যর্থতাকে তুমি তুচ্ছ ভেবো।সাথি হয়ে থেকো আজ থেকে অনন্ত দিন পর্যন্ত।এই বাঁধন কখনো বিচ্ছেদ করার মনোভাব নিও না।কারন বিয়ে হলো এমন জিনিস যা ঃ দুইটি উড়ন্ত পাখি দূরান্ত হয়ে একসাথে একছাদে নিচে বসবাস করা কে বিয়ে বলে।বিয়ের কবুল থেকে মরন পর্যন্ত একটি জীবন অন্য জীবনের সাথে গেঁথে থাকার অঙ্গীকারই হল বিয়ে।এই বন্ধন যেন কাঁচের মত তুচ্ছ আঘাতে ভেঙ্গে না যায়।কাল বৈশাখী তুমুল ঝড়ও যেন,এই বাঁধনকে আলাদা করতে না পারে।এমন প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হতে হবে দুইজন কে।তোমার যদি কখনো কিছু বলার থাকে।তাহলে আমাকে বিনা-দ্বিধায় স্পষ্ট ভাবে বলিও ।কখনো মনে ভিতরে সংসয় রেখো না।রেখো না বিষে ভরা ক্রোধ।রেখো শুধু অফুরান্ত রক্তিম ভালোবাসা।রেখো ফুলের সুবাস।আর সেই সুবাস যেন সবার মাঝে ছড়িয়ে দিতে পারো।ও হ্যাঁ আরো একটি কথা মন দিয়ে শুনো _যখন তুমি কবুল বলেছ তখন থেকে তোমার জীবন বদলে গেছে।আজ থেকে পূর্বের জীবনে যে কোন কাজ তোমার একা সিদ্ধানে উপনীত হয়েছে।কিন্তু এখন থেকে তুমি আমার জীবনকে হাসি মুখে বরণ করেছ।এই লগ্ন থেকে আগামিতে কোন কাজ করতে হলে আমাকে অবশ্যই জানাবে।

এবং আমার অনুমতি ক্রমে অগ্রসর হইও।আমি যা পছন্দ করি না।তুমি তা কখনো ভুলেও করিও না।আবার না করতে পেরে বিরক্তি হয়ে উলটা কিছু করো না।কখনো তোমার জীবন সাথি কে অন্যের নিকট ছোট করো না।অকারনে তাকে তিরিষ্কার করো না।পৃথিবিতে অন্য,বস্ত্র, সঙ্গম এবং সৌন্দর্য এর চেয়ে অধিক মূল্যবান ও উত্তম জিনিস হল একরাশ পবিত্র ভালোবাসা।আবারও বলছি,আমার পবিত্র ভালোবাসা এই বাসর রজনীতে তোমাকে নীরবে দান করলাম।তুমি তা সাদরে গ্রহন করে আমাকে ধন্য করো।এবং ফুসে রেখো তোমার ভালোবাসা ভরা কোমল হৃদয়ে ।কখনো যেন অযত্ন না হয়।কোন দিন যেন অভিশাপ্ত শয়তান দ্বারা কুলসিত না হয়। ****অন,বস্ত্র,সঙ্গম ,সৌন্দর্য এবং ভালোবাসা নিয়ে কিছু কথা ঃ___

(১)অন্য ঃ—যখন তোমার ক্ষুধা লাগবে।তখন অন্য পাওয়ার জন্য হাহাকার করবে তোমার ক্ষুধার্ত পেট।ঠিক সে সময় অন্য আহারের ফলে তোমার ক্ষুধা মিটবে।ক্ষুধা শেষ হওয়ার সাথে-সাথে, ক্ষুধার প্রতি তোমার লোভ শেষ হয়ে যাবে।এবং সে সময় তখন আর ক্ষুধার প্রতি আকর্ষণ থাকবে না।

(২)বস্ত্র ঃযখন তুমি নতুন একটা বস্ত্র খরিদ করবে।ঠিক তখন সেই খরিদকৃত নতুন বস্ত্রের প্রতি তোমার অনেক মায়া জমবে।সেইটা কে ধুলো-বালু থেকে মুক্ত রাখার জন্য পরিষ্কার করে যত্নে রাখবে।কিন্তু সেই বস্ত্রটি যদি পুরাতন হয়ে যায়।তখন সেইটার প্রতি তোমার মায়া হারাবে।এবং এক সময় সেই চকচকে নতুন বস্ত্রটি অকেজো হয়ে ছিঁড়ে যাবে।ঐ সময় সেই মায়াবী বস্ত্রটি অগোচলো ধুল-বালুতে তুমিই ছুঁড়ে পেলে দিবে।

(৩)সঙ্গমঃ যখন তোমার রক্ত উত্তোজিত থাকবে।ঠিক সেই লগ্নে তোমার নিকট সঙ্গম পৃথিবির সব চেয়ে উত্তম মনে হবে।আরও মনে হবে সঙ্গম ব্যতিত সবেই বৃথা।সঙ্গম ছাড়া মানব জীবন ভাবা যায় না।কিন্তু এক পর্যায় যখন তোমার সেই উত্তোজিত রক্ত শীতল হবে।তখন আর সঙ্গম ভালো লাগবে না।অবশেষে যখন তোমার ক্রমে-ক্রমে তোমার বয়স বৃদ্ধি হবে।সেই মূহূর্তে তোমার সঙ্গম এর প্রতি লোভ হ্রাস পাবে।এবং এক পর্যায় সঙ্গমের প্রতি কোন চেতনা তোমার মস্তিস্কে থাকবে না।মিলনের আগ্রহ হারিয়ে যাবে অচিন দূরে ।

(৪)সৌন্দর্যঃ মানবের যৌবনের সৌন্দর্য একসময় পরিপূর্ণ থাকে।তখন তাঁর কাছে সব কিছুই ভালো লাগে।এবং সৌন্দর্যের মোহে বহু অপরিচিত লোক কাছে আসে।প্রায় মানুষ সেই সৌন্দর্যের মাঝে নিজেকে হারাতে চায়।আবার এক শ্রেণীর মানব সেই সৌন্দর্য কে নিয়ে ভোগে মেতে থাকতে চায়।নানান জন নানান ভাবে আকিষ্ট হয়ে পাশে আসে।ফের যখন বয়স ধিরে-ধিরে নিজের গতিতে বৃদ্ধি পায়।তখন সৌন্দর্য চাঁদের আলোর মত হারিয়ে যায় আপন চলনে।সৌন্দর্য তাঁর নিজ নীড়ে চলে যাওয়ায় সাথে-সাথে তখন আর অপরিচিত লোক আকর্ষিত হয়ে কাছে আসে না।তাজা লাল টুকটুকে গোলাপ নিয়ে শুভেচ্ছা জানাতে অপেক্ষা করে না।আর ঠিক ঐ সময় নিজের কাছে নিজেকে বড়ই অচেনা এবং একা লাগবে।এইটাই নির্মম বাস্তব।

(৫)ভালবাসাঃ কিন্তু ভালোবাসা কখনো পুরাতন হয় না।কোন কিছু দিয়ে ভালবাসাকে মিটানো যায় না।শুধু একমাত্র ভালোবাসা ভরা হৃদয় ছাড়া।ভালবাসার কোন সময়সীমা থাকে না।ভালবাসা কখনো নীরবে-নিভুতে হারিয়ে যায় না।ভালোবাসা কোন দিন বৃদ্ধ হয় না।এবং হ্রাস পায় না।কোন কিছুর মধ্যে ভালোবাসা সীমাবদ্ধ নহে।ভৃালবাসার মৃত্যু হয় না।ভালোবাসা আ’মরন এবং চিরজীবী।দোলনা থেকে কবর পর্যন্ত ভালোবাসা থাকে প্রত্যেক মানবের অন্তরে। তাই আমার জীবনে তুমি থেকো সদ্য তাজা লাল গোলাপ হয়ে।এবং তোমার হৃদয় হোক রুচিশীল একটি মায়াবী হৃদয়।যে হৃদয়ে থাকবে শুধু স্নেহ-মায়া,মমতা,আদর ও অসিম ভালোবাসা।জেনে রেখো এই সাজানো পৃথিবিতে তাকা-পয়সা,গাড়ি-বাড়ি সব কিছু থাকলেও যদি হৃদয়ের মাঝে ভালোবাসা না থাকে।তাহলে জীবনকে সামনের দিগে এগিয়ে নেওয়া অসম্ভব।ভালবাসা হীন মানব জীবন বড়ই অসহায়।ভালবাসা ব্যতিত জীবনটা শুধুই মরুভূমি।তাই এই জীবনে ভালোবাসা থাকতে হবে পরস্পর-পরস্পরের প্রতি।বিলাসিতা নয়, নয় কোন চলনা। আমি ফের তোমাকে বলবঃ যদি কখনও আমি তোমাকে কোন কিছু দিতে অপরাগ হই।তাহলে তুমি সরাসরি আমাকে বলবে।এবং দুইজনে আলোচনার মাধ্যমে সমধান করতে সক্ষম হবে ইন্সাআল্লা।মনে রেখো তৃতিয় কোন ব্যক্তির কর্ণ পাতে যেন না যায়।আমার উপর দৃঢ় বিশ্বাস রেখো অনন্ত কাল।কারন বিশ্বাসই হল সংসার জীবনের মূল চালিকা শক্তি।এ বিশ্বাস কে দুর্বল হতে দেয়া যাবে না কোন ক্রমেই।তাহলে এক তরফা শত চেষ্টা করেও সংসার টিকিয়ে রাখা মোটোই সম্ভব নয়।কোন দিনই কোন সংসার স্বামী বা স্ত্রির একা চেষ্টায় সুখের হতে পারে না।একজনের দোষে তা আবার ভেঙ্গে যেতে পারে না।বর্তমান সামজিক অবক্ষয়ের এ সন্ধিক্ষণে সব রকম সাংসারিক অশান্তিকে আমাদের অপসারন করতে মনে রাখা অবশ্যই প্রয়োজন “লাইফ ইজ এডজাস্টমেন্ট এন্ড কম্প্রোমাইজ” যেহেতু আমরা একে অন্যকে পূর্বে জানার-চিনার সুযোগ পাইনি।সেহেতু পরস্পরকে জানতে-চিনতে কিছু দিন সময় দেয়া প্রয়োজন উভয়কেই।হুট করে কোন সিদ্ধান্তের আশ্রয় নেয়া কোন ক্ষেত্রেই সমীচীন না।পরস্পরকে জানার বা বোঝার সময় লেগে যেতে পারে কয়েক বছর এ জন্য অবশ্যই ধৈর্য্যটা বড় বিষয়।

কথায় আছে ঃ coold tea and old wife never bitre.’অর্থাৎ গরম চায়ের চেয়ে ঠাণ্ডা চা-পান শারিরের জন্য অনেক উপকারী। তেমনি একটি দাম্পতের সময় যতো বাড়বে ,জানতে-বুঝতে ততো বেশি পারা জাবে।এবং ভুল বুঝা-বুঝি হলে উভয়কেই শুধরে নিতে সময় পাবে।স্বামী যেমনি স্ত্রিকে বুঝতে পারবে যে ওর কোনটা পছন্দ আর কোনটা অপছন্দ।তেমনি স্ত্রি ও বুঝতে পারবে স্বামী কি চায়?এতে আমাদের দাম্পত্য জীবনে সমঝোতা অনেক বাড়বে ।ভালবাসা গভীরতা হবে।দাম্পত্য জিবন হবে আরো মধুময় নীড়। অবশেষে বলবোঃ আমি কখনো জানতে চাব না তুমি আমার জীবনে আসার পূর্বে কি ছিলে।এবং তুমি কেমন করে তোমার সাজানো বাগানটি অতিবাহিত করেছিলে।কিন্তু আজ থেকে আমাকে জানার অধিকার যখন দিয়েছ।এখন থেকে জানব তুমি কি ধরনের ও কেমন প্রকৃতির।তোমার কি করা উচিৎ এবং না করা উচিৎ।কোথায় যাবে না যাবে।সব দায়িত্ব শুধু মাত্র আমার ও একমাত্র আমাকে দিয়েছ তুমি।আর আমার অনুমতি তোমার জন্য বড়ই প্রাপ্তির।তবে আমার অনুরোধ এমন কিছু করো না, যাতে ওগো আমার কষ্ট এবং অসম্মান হয়।আমার সাদ্ধের বাহিরে কোন কিছু দাবি করো না।তবে কখনো যদি তোমার মনে হয় আমি তোমার যোগ্য নয়।অথবা আমার জীবনের সাথে জড়িয়ে থাকলে তুমি শুধু শুন্যতা পাবে।তখন তুমি স্পষ্ট করে আমাকে বলিও যে,আমার সংসার করা তোমার পক্ষে সম্ভব নয়।তাহলে তুমি যেতে চাইলে আমি তোমাকে বাঁধা দিব না।কিন্তু মনে রেখো সমাজের কাছে আমাকে হেয় পরিনিত করো না।আমাকে ওগো তুমি লোক সমাজে ছোট করো না।তোমার স্বপ্নের মায়াবী ঠিকানায় যেতে চাইলে আমাকে বলে যেও।আমি তোমাকে সাহায্য করার চেষ্টা করবো।তবে আমার সাথে আজিবন বন্ধুত্ব রেখো। আমার মায়ের সমন্ধে কিছু না বললে নয়।। এই পৃথিবিতে আমার সব চেয়ে দামি জিনিসটি হল আমার আদরনি, গর্বদারনি, মমতাময়ী মা জননী।মা-কে ছাড়া আমার জীবন তিমির রজনির মত।আমার জীবনের চেয়েও মূল্যবান হলো আমার দুঃখিনী মা।আর সেই মাকে কখনো উচ্ছ স্বরে কথা বলো না।কখনও মায়ের অবাধ্য হইয় না।আমার মায়ের সেবা করার সময় কোন দিন কোন ব্যক্তির জন্য অপেক্ষা করো না।আমার মায়ের যত্ন নিতে কখনো কারো সাথে ভাগাভগি করো না।আমার মায়ের সেবা কে করলো না করলো সেই কথা ভেবনা।তোমার দায়িত্ব তুমি নিখোধ ভাবে পালন করবে।আমার আদেশ তুমি কখনো তোমার কর্তব্য পালন করতে পিচুপা হবে না।মায়ের মন জয় করে নিও।

শোনোঃ যখন তুমি ছিলে না।তখন আমার মা আমাকে প্রচুর আদর করে বড় করেছে।আমার জন্য মা সারাক্ষন চিন্তায় থাকতো ।আমি কেমন আছি।ঠিক মতো খেয়েছি নাকি।আমার সামান্যতম অসুখের কথা শুনলে মা আমার পাগলের মতো হয়ে যায়।ছোট বেলা আমার মা প্রায় সময় নিজে না আহার করে আমার জন্য রেখে দিতো ।নামায আদায় করে আমার জন্য সব সময় দোয়া করিতো ।এখনও তাই করে।আমার মাকে ভুল করেও কষ্ট দিওনা।আমার প্রিয় মায়ের বিরদ্ধে কখনো আমার নিকট অথবা পৃথিবির কোন ব্যক্তির কাছে অভিযোগ করো না।কারন জগতে পূর্বে, বর্তমানে এবং ভবিষ্যতে এমন কোন আদম সন্তান জন্ম গ্রহন করিনি যে, মা-বাবার বিচার করতে পারবে।দুনিয়ার সবার বিচার করা যায়।কিন্তু মা-বাবার বিচার করা যায় না।এইটাই বাস্তব সত্য।মনে রেখো একদিন তুমিও মা হবে।এবং সন্তান বড় করার জন্য তোমার যে কষ্ট হবে।তা আমার মায়েরও হয়েছিল।তোমার সন্তানের প্রতি তোমার যেমনি প্রত্যাশা থাকবে।তেমনি আমার মায়েরও আমার প্রতি অনেক প্রত্যাশা।আর সেইটা থেকে আমাকে কোন দিন বঞ্চিত করো না।

 

Leave a Reply